পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে!!?
পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, আর আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে পৃথিবীর প্রাণের স্পন্দন থেমে যাচ্ছে। চোখের সামনে ভেঙে পড়ছে আকাশচুম্বী দালান। নিমিষেই গুড়িয়ে যাচ্ছে মাটিতে। না, বাস্তবে নয়, এটি অতি জনপ্রিয় মুভি ‘২০১২ এর কাহিনী। তবে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে ২০১২ সালে নাকি সত্যিই ধ্বংস যাচ্ছে আমাদের পৃথিবী। ডুমস্ডে-২০১২ নিয়ে সাপ্রতিক জল্পনা-কল্পনা,ইন্টারনেট পাড়ায় হৈ-চৈ, প্রখ্যাত পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদন এবং বিজ্ঞানীদের অভিমত নিয়ে এই প্রতিবেদন।
বিজ্ঞানীরা গবেষনা করে দেখেছেন, পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে এ পর্যšত পাঁচটি মহাপ্রলয় হয়েছে। এগুলো হয়েছে যথাক্রমে ৪৩ কোটি বছর আগে আর্ডোভিসিয়ান যুগের শেষে।সমুদ্রের অপেক্ষাকৃত উন্নত প্রাণীদের অধিকাংশই তখন বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরপর মহাপ্রলয় ঘটে ৩৫ কোটি বছর আগে ডেভোলিয়ান যুগে। তৃতীয় মহাপ্রলয় ঘটেছিল পাসিয়ান যুগের শেষে অর্থাৎ সাড়ে ২২ কোটি বছর আগে, সেই মহাপ্রলয় ছিল সব চেয়ে বিধ্বংসী।আবার জীবকুলের মহাবিলুপ্তি ঘটেছে ২০ কোটি বছর আগে। এই যুগে পৃথিবীতে উদ্ভিদকুলের বিপুল প্রসার ঘটেছিল। আমাদের দেশে বেশি ভাগ কয়লার উৎপত্তি হয়েছে এই যুগের শেষ মহাপ্রলয়ে বিধ্বস্ত গাছপালা থেকে।পঞ্চম ও শেষ মহাপ্রলয় ঘটেছে সাড়ে ৬ কোটি বছর আগে ক্রেটেশাম যুগের শেষ দিকে।তখন মহাবিশ্ব থেকে ছুটে আসা এক উল্কার সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটেছিল পৃথিবীর। সেই মহাপ্রলয়ের কারণে অন্যান্য প্রাণীকুলের সঙ্গে বৃহৎপ্রাণী ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটে।বিজ্ঞানীদের মতে উল্কার সঙ্গে সংঘর্ষের জায়গাটি ছিল মেক্সিকোর ইউকাটান, আবার কিছু বিজ্ঞানীদের মতে ভারতের মুম্বাই হাইয়ের শিবা ক্রেটার। এবার হচ্ছে ষষ্ঠ মহাপ্রলয়র পালা। সে মহাপ্রলয় হতে যাচ্ছে কবে? সেটা কি ‘২০১২’ সালেই? এবার সে প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজা যাক।
মায়ান ক্যালেন্ডার রহস্য
পৃথিবী ধ্বংস নিয়ে আলোচনায় যে বিষয়টি সবচেয়ে উলেখযোগ্য তা হচ্ছে মায়ান ক্যালেন্ডার। আমরা অনেকেই হয়ত মায়ান সভ্যতার কথা শুনেছি। মায়ানরা ছিল প্রাচীন আমেরিকা (বর্তমান মেক্সিকো) তে বসবাসকারী জাতি। তাদের ছিল ভবিষ্যৎ জানার নান্দনিক ক্ষমতা। মায়ানরা আগে থেকেই জানতো যে চাঁদ, শুক্র এবং অন্য গ্রহ-তারা মহাবিশ্বে চক্রাকারে ঘুরছে। সেই সময় তারা নিখুঁতভাবে সময় গণনা করতে পারত। তাদের একটি পঞ্জিকা ছিল যাতে সৌরবছরের প্রতিটি মিনিটের নিখুঁত বর্ণনা ছিল। মজার ব্যাপার হল,মায়ান ক্যালেন্ডরে এই পর্যন্ত যত ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে তার সবই সত্য হয়েছে। আজকের বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতা থেকে শুরু করে বিজ্ঞানের সব গুরূত্বপূর্ণ উত্থানের উল্লেখ মায়ানদের ক্যালেন্ডারে আগে থেকে ছিল। মায়ানরা মনে করত প্রতিটি জিনিসের ওপর সময়ের প্রভাব রয়েছে এবং প্রতিটি জিনিস একেক সময় একেকটি অবস্থানে বিরাজ করছে। মায়ানদের কাছে মহাকাশ নিয়ে ২২টি ভিন্ন ভিন্ন পজ্ঞিকা ছিল। এর মধ্যে কোন কোনটি ১০ মিলিয়ন বছর আগের। অধিকাংশ আর্কিওলজিস্ট মনে করেন মায়ানরা খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৩,১৪৪ আগে থেকে সময় গণনা শুরু করেছে ।তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী খ্রিস্টের জন্মের বছরের জানুয়ারী মাসকে লেখা হয় :০-০-০-০-০। মায়ানদের ক্যালেন্ডারের দৈর্ঘ্য ৩,৫০০ বছর যেখানে প্রতিটি বছরে মাস রয়েছে ১৩টি। মায়ান ক্যালেন্ডারে অনেকগুলো চক্র আছে। একটি নতুন চক্র শুরু হওয়ার আগে ১৩ মাসের ৩৯৪ বছর শেষ হয়ে যাবে। নতুন চক্র শুরু হবে ২০১২ সালে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বরের পর মায়ান পঞ্জিকাতে আর কোন দিনের উলেখ নেই।পাশাপাশি মায়ান সভ্যতার একটি ভাস্কর্য পাওয়া গেছে যাকে বলা হয় “Tortuguero Monument Six”। এতে ৮০টি ‘গিফ ’ বা বাক্য রয়েছে যাদের শেষ ৮টি বাক্যে ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর পৃথিবীর শেষ দিন বলা হয়েছে। এছাড়া মায়ান ধর্ম গ্রন্থে বলা হয়েছে এদিন “Deity Of Period Ending” বা পর্বের সমাপ্তিকারক দেবতা পৃথিবীতে আসবেন এবং পৃথিবী ধ্বংস করে দিবেন। মায়ানদের পঞ্জিকার মধ্যে সময় এর সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র পৃথিবী এবং সোলার সিস্টেমের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ আছে। এগুলোর মধ্যে কিছু পঞ্জিকা এখনো পর্যšত প্রকাশিত হয়ে আসছে। মায়ানদের মতে পঞ্চম বিশ্বেও সমাপ্তি হয়েছে ১৯৮৭ সালে আর ষষ্ঠ বিশ্ব শুরু হবে ২০১২ সালে। অর্থাৎ বর্তমানে আমারা বিশ্বের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করছি। মায়ানদের মতে এ সময়টাকে বলা হয় ‘এপোক্যালিপস বা ‘রহস্য উন্মোচন’ এর অর্থ দাঁড়ায় প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। মায়ানরা এটাও বলে যে ২০১২ সাল নাগাদ আমরা প্রযুক্তির অনেক ঊর্ধ্বে উঠে যাব (এখন আমরা যেমনটা দেখতে পাচ্ছি)। আমরা সময় এবং টাকার ঊধ্বে চলে যাব। চতুর্থ ডাইমেনশন (বর্তমান ৮ টি ডাইমেনশন নিয়ে কাজ চলছে) অতিক্রমকরে আমরা পঞ্চম ডাইমেনশনে প্রবেশ করব। গ্যলাক্সির সময় বিন্যাসের এবং আমাদের পৃথিবী ও সমগ্র সোলার সিস্টেমের সময়সীমা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে যাবে। এই সম্পর্কে পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সুপার ভলক্যানো ইয়েলোস্টোন
বিশ্বের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি হলো অমেরিকার ইয়েলোস্টোন, দ্য সুপার ভলকানো। গাণিতিক হিসাবে সেসব আগ্নেয়গিরিকেই সুপার ভলকানো বলা হয়, যেগুলো ১ হাজার কিউবিক কিলোমিটারের অধিক উদ্গীরণ করতে সম। এরা ততটা ঘনঘন উদ্গীরণ করেনা, কয়েক হাজার বছরে একবার বা আর কম। তবে সুপার ভলকানো সাম্প্রপ্তিক আচরণে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন বিজ্ঞানিরা। আইসল্যান্ডের আগ্নেয়গিরিতে ফাটল ও ধোঁয়ার কারণে উদ্গীরণের সম্ভাবনা ঘনীভূত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা যায় ইয়েলোস্টোন এক অদ্ভুত আচরণ মেনে চলে। এর উদ্গীরণের সময়কাল যথাক্রমে ৩০ লাখ, ২১ লাখ, ১৩ লাখ ও ৬ লাখ বছর আগে। লক্ষ করলে দেখা যায় এটি যথাক্রমে ৯ লাখ, ৮ লাখ, ৭ লাখ বছর পর পর উদ্গীরিত হচ্ছে। এই নিয়ম মেনে চললে ২০১২ সালে আবার উদ্গীরণ হবার কথা। বিজ্ঞানিরা দাবি করেছেন ২০১২ সালের শেষের দিকে একটি উদ্গীরণের আশংঙ্কা রয়েছে। আর এ কথা অনস্বীকার্য যে, এটি উদ্গীরিত হলে শুক্র গ্রহের মত পৃথিবীতে ও থেমে যাবে প্রাণের স্পন্দন।
লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার(Lurge Hudron Collider-LHC)
পৃথিবীর বৃহত্তম কণা ত্বরক মেশিন হচ্ছে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার। সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্ত অঞ্চলে নিচে এটি স্থাপিত যার দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। LHC নির্মানে ১ হাজার কোটি ডলার খরচ হয়েছে। এটি উদ্ভাবন করেছেন ইউরোপের প্রভাবশালী বিজ্ঞান সংস্থা সার্ন (ইউরোপের অর্গানাইজেশন ফর নিউকিয়ার রিসার্চ)। এখানে ৮৫টি দেশের ৮ হাজারেরও অধিক বিজ্ঞানী এই ত্বরক নির্মান প্রকল্পে কাজ করছেন। এছাড়াও অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগার এই নির্মান প্রক্রিয়ার সাহায্য করেছে।২০০৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো পুরো LHC’তে প্রোটন রশ্মি চালানো হয়। এর আগে অনেকগুলো হ্যাড্রন-কোলাইডার তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু LHC’র মতো অন্য কোনটি এত আলোচিত হয়নি।কেননা আগের কোলাইডারগুলোর তুলনায় এটি কয়েক গুণ বেশি উচ্চ শক্তিসম্পন্ন। এটি আবার চালানো হয় ২০০৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু তখন সারা বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যে, বিগ ব্যাং পরীক্ষা চালানোর সময় ওই কোলাইডারে অপরিসীম শক্তি উৎপন্ন হবে যা বিজ্ঞানীরা নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। এ পরীক্ষার বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত হয়। কিন্তু চালু করার নয় দিন পর এটিতে ত্রুটি ধরা পড়ে। এটি মেরামত করতে ১৪ মাস লাগে এবং ৪ কোটি ডলার খরচ হয়। এর মধ্যকার সংঘর্ষের মাধ্যমে দেখা হবে মহাবিষ্ফোরোনের সময় পরমাণু কি আচরণ করে, তৈরী করা হবে কৃত্রিম ‘Big Bang’। দ্য ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন অব নিউক্লিয়ার রিসার্চের তথ্য অনুসারে তারা ২০১২ সালে আবার এটি চালু করবে। আলোর গতিতে দুটি প্রোটন কণার মধ্যে সংঘর্ষ ঘটানো হবে, তৈরি হবে ‘Black Hole’। এরপর তা বিস্ফোরিত হবে মহাশক্তিতে । এ সময় তৈরি হবে বিগ ব্যাংয়ের সময়কার তাপ। এই তাপ ৪০,০০০০০০০০০০০(৪০ লক্ষ কোটি) ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকেও বেশি হবে বলে জানা গেছে।বিজ্ঞানিরা যদি এই বিশাল তাপ নিয়ন্ত্রনণ করতে ব্যর্থ হন তবে পৃথিবী ধ্বংস যে অনিবার্য তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
I-Ching''র ভবিষ্যদ্বাণী
I-Ching'র ভবিষ্যদ্বাণী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভবিষ্যদ্বাণী গুলোর অন্যতম।প্রায় ৫,০০০ বছর পূর্বের I-Ching'র ভবিষ্যদ্বাণীতে উল্লেখিত প্রায় সব কথা সত্য হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে রোমান সাম্রাজ্যের ধ্বংস, আমেরিকা আবিষ্কার, দুটি বিশ্বযুদ্ধ ইত্যাদি। সাথে সাথে ঐ ভবিষ্যদ্বাণীতে এটাও বলা আছে যে ২০১২ সালে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।
মহাজাগতিক কারণ
ইন্টারন্যাশনাল ইউ এফ ও রিসার্স অর্গানাইজেশনের তথ্য মতে তারা সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক UFO (Unidentified Flying Object) দেখতে পেয়েছেন। এর কারণ সম্পর্কে তারা অবগত নন। এছাড়াও ২০১২ সালে আমাদের সৌরজগৎ ও ছায়াপথ একই সমতলে থাকবে। এই চক্র পূর্ণ হতে প্রায় ২৬ হাজার বছর লেগেছে। পাশাপাশি ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর সৌরজগতের সবগুলো গ্রহ এবং সূর্য এক সরলরেখায় চলে আসবে। অর্থাৎ, খুব শিগগিরই মহাজাগতিক কোন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।
প্রকৃতির বৈরী আচরণ
সাপ্রতিককালে বিশ্বজুড়ে প্রকৃতি যে আচরণ শুর করেছে তা সত্যিই উদ্বেগজনক। কয়েক বছর ধরেই পৃথিবীর বুকে আঘাত হানছে বৈরী আবহাওয়া। ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ধারাবাহিক ভবে ভূমিকম্প, দাবানল, বন্যা, তুষারঝড়, ঝড়-জলোচ্ছাস ও শৈত্যপ্রবাহ বিশ্বজুরে লেগে আছে। আক্রান্ত হচ্ছে রাশিয়া, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ইউরোপ, কলম্বিয়া, চীন, ভারত, জাপান, বাংলাদেশসহ বিশ্বেও অধিকাংশ দেশ। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করেছেন ২০০১ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম কাল। এমনকি আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা WMO ২০১০ সালকে ১৫০ বছরের মধ্যেবিশ্বের সবচেয়ে গরম বছর হিসাবে চিিহ্নত করেছে। তারচেয়েও আতঙ্কের বিষয় সাম্প্রতিক কালে জাপানে যে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে তাতে পৃথিবীর অক্ষ ১ মিনিট কোণে হেলে গেছে। ফলশ্রুতিতে জ্যোর্তিবিজ্ঞানীদের সব হিসাবনিকাশ ভূল প্রমাণ করে উত্তর গোলার্ধেও এলাকা গ্রীনল্যান্ডে নির্ধারিত সময়ের ২ দিন আগে সূর্যদয় হয়েছে। এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। আর জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভবিষ্যৎ ফলাফল হল পৃথিবী ধ্বংস।
উপরে উল্লেখিত তথ্যাবলি থেকে অনুমান করা যায়, ২০১২ সালে হয়ত কিছু না কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তবে বিজ্ঞানিরা পৃথিবী ধ্বংসের ব্যাপারে একমত নন। তাদের মতে,২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বরের পর পৃথিবী ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়বে। অনেকের মতে পৃথিবীতে মহামারি দেখা দিবে অথবা কোনো না কোনো ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানবে। তবে যাই হোক না কেন আমরা নিশ্চয়ই ‘ডুমসডে-২০১২’ মুভিটির বাস্তবরুপ দেখতে আগ্রহী হব না, তাই না?
লেখক-- মোঃ জাহিদুল ইসলাম।
উৎস- http://www.earthsky.com, http://www.aboutastro.com, http://www.SecondTree.org,http://www.2012thetruth.com, New Yourk Times, দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন।
পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, আর আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে পৃথিবীর প্রাণের স্পন্দন থেমে যাচ্ছে। চোখের সামনে ভেঙে পড়ছে আকাশচুম্বী দালান। নিমিষেই গুড়িয়ে যাচ্ছে মাটিতে। না, বাস্তবে নয়, এটি অতি জনপ্রিয় মুভি ‘২০১২ এর কাহিনী। তবে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে ২০১২ সালে নাকি সত্যিই ধ্বংস যাচ্ছে আমাদের পৃথিবী। ডুমস্ডে-২০১২ নিয়ে সাপ্রতিক জল্পনা-কল্পনা,ইন্টারনেট পাড়ায় হৈ-চৈ, প্রখ্যাত পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদন এবং বিজ্ঞানীদের অভিমত নিয়ে এই প্রতিবেদন।
বিজ্ঞানীরা গবেষনা করে দেখেছেন, পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে এ পর্যšত পাঁচটি মহাপ্রলয় হয়েছে। এগুলো হয়েছে যথাক্রমে ৪৩ কোটি বছর আগে আর্ডোভিসিয়ান যুগের শেষে।সমুদ্রের অপেক্ষাকৃত উন্নত প্রাণীদের অধিকাংশই তখন বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরপর মহাপ্রলয় ঘটে ৩৫ কোটি বছর আগে ডেভোলিয়ান যুগে। তৃতীয় মহাপ্রলয় ঘটেছিল পাসিয়ান যুগের শেষে অর্থাৎ সাড়ে ২২ কোটি বছর আগে, সেই মহাপ্রলয় ছিল সব চেয়ে বিধ্বংসী।আবার জীবকুলের মহাবিলুপ্তি ঘটেছে ২০ কোটি বছর আগে। এই যুগে পৃথিবীতে উদ্ভিদকুলের বিপুল প্রসার ঘটেছিল। আমাদের দেশে বেশি ভাগ কয়লার উৎপত্তি হয়েছে এই যুগের শেষ মহাপ্রলয়ে বিধ্বস্ত গাছপালা থেকে।পঞ্চম ও শেষ মহাপ্রলয় ঘটেছে সাড়ে ৬ কোটি বছর আগে ক্রেটেশাম যুগের শেষ দিকে।তখন মহাবিশ্ব থেকে ছুটে আসা এক উল্কার সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটেছিল পৃথিবীর। সেই মহাপ্রলয়ের কারণে অন্যান্য প্রাণীকুলের সঙ্গে বৃহৎপ্রাণী ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটে।বিজ্ঞানীদের মতে উল্কার সঙ্গে সংঘর্ষের জায়গাটি ছিল মেক্সিকোর ইউকাটান, আবার কিছু বিজ্ঞানীদের মতে ভারতের মুম্বাই হাইয়ের শিবা ক্রেটার। এবার হচ্ছে ষষ্ঠ মহাপ্রলয়র পালা। সে মহাপ্রলয় হতে যাচ্ছে কবে? সেটা কি ‘২০১২’ সালেই? এবার সে প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজা যাক।
মায়ান ক্যালেন্ডার রহস্য
পৃথিবী ধ্বংস নিয়ে আলোচনায় যে বিষয়টি সবচেয়ে উলেখযোগ্য তা হচ্ছে মায়ান ক্যালেন্ডার। আমরা অনেকেই হয়ত মায়ান সভ্যতার কথা শুনেছি। মায়ানরা ছিল প্রাচীন আমেরিকা (বর্তমান মেক্সিকো) তে বসবাসকারী জাতি। তাদের ছিল ভবিষ্যৎ জানার নান্দনিক ক্ষমতা। মায়ানরা আগে থেকেই জানতো যে চাঁদ, শুক্র এবং অন্য গ্রহ-তারা মহাবিশ্বে চক্রাকারে ঘুরছে। সেই সময় তারা নিখুঁতভাবে সময় গণনা করতে পারত। তাদের একটি পঞ্জিকা ছিল যাতে সৌরবছরের প্রতিটি মিনিটের নিখুঁত বর্ণনা ছিল। মজার ব্যাপার হল,মায়ান ক্যালেন্ডরে এই পর্যন্ত যত ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে তার সবই সত্য হয়েছে। আজকের বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতা থেকে শুরু করে বিজ্ঞানের সব গুরূত্বপূর্ণ উত্থানের উল্লেখ মায়ানদের ক্যালেন্ডারে আগে থেকে ছিল। মায়ানরা মনে করত প্রতিটি জিনিসের ওপর সময়ের প্রভাব রয়েছে এবং প্রতিটি জিনিস একেক সময় একেকটি অবস্থানে বিরাজ করছে। মায়ানদের কাছে মহাকাশ নিয়ে ২২টি ভিন্ন ভিন্ন পজ্ঞিকা ছিল। এর মধ্যে কোন কোনটি ১০ মিলিয়ন বছর আগের। অধিকাংশ আর্কিওলজিস্ট মনে করেন মায়ানরা খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৩,১৪৪ আগে থেকে সময় গণনা শুরু করেছে ।তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী খ্রিস্টের জন্মের বছরের জানুয়ারী মাসকে লেখা হয় :০-০-০-০-০। মায়ানদের ক্যালেন্ডারের দৈর্ঘ্য ৩,৫০০ বছর যেখানে প্রতিটি বছরে মাস রয়েছে ১৩টি। মায়ান ক্যালেন্ডারে অনেকগুলো চক্র আছে। একটি নতুন চক্র শুরু হওয়ার আগে ১৩ মাসের ৩৯৪ বছর শেষ হয়ে যাবে। নতুন চক্র শুরু হবে ২০১২ সালে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বরের পর মায়ান পঞ্জিকাতে আর কোন দিনের উলেখ নেই।পাশাপাশি মায়ান সভ্যতার একটি ভাস্কর্য পাওয়া গেছে যাকে বলা হয় “Tortuguero Monument Six”। এতে ৮০টি ‘গিফ ’ বা বাক্য রয়েছে যাদের শেষ ৮টি বাক্যে ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর পৃথিবীর শেষ দিন বলা হয়েছে। এছাড়া মায়ান ধর্ম গ্রন্থে বলা হয়েছে এদিন “Deity Of Period Ending” বা পর্বের সমাপ্তিকারক দেবতা পৃথিবীতে আসবেন এবং পৃথিবী ধ্বংস করে দিবেন। মায়ানদের পঞ্জিকার মধ্যে সময় এর সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র পৃথিবী এবং সোলার সিস্টেমের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ আছে। এগুলোর মধ্যে কিছু পঞ্জিকা এখনো পর্যšত প্রকাশিত হয়ে আসছে। মায়ানদের মতে পঞ্চম বিশ্বেও সমাপ্তি হয়েছে ১৯৮৭ সালে আর ষষ্ঠ বিশ্ব শুরু হবে ২০১২ সালে। অর্থাৎ বর্তমানে আমারা বিশ্বের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করছি। মায়ানদের মতে এ সময়টাকে বলা হয় ‘এপোক্যালিপস বা ‘রহস্য উন্মোচন’ এর অর্থ দাঁড়ায় প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। মায়ানরা এটাও বলে যে ২০১২ সাল নাগাদ আমরা প্রযুক্তির অনেক ঊর্ধ্বে উঠে যাব (এখন আমরা যেমনটা দেখতে পাচ্ছি)। আমরা সময় এবং টাকার ঊধ্বে চলে যাব। চতুর্থ ডাইমেনশন (বর্তমান ৮ টি ডাইমেনশন নিয়ে কাজ চলছে) অতিক্রমকরে আমরা পঞ্চম ডাইমেনশনে প্রবেশ করব। গ্যলাক্সির সময় বিন্যাসের এবং আমাদের পৃথিবী ও সমগ্র সোলার সিস্টেমের সময়সীমা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে যাবে। এই সম্পর্কে পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সুপার ভলক্যানো ইয়েলোস্টোন
বিশ্বের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি হলো অমেরিকার ইয়েলোস্টোন, দ্য সুপার ভলকানো। গাণিতিক হিসাবে সেসব আগ্নেয়গিরিকেই সুপার ভলকানো বলা হয়, যেগুলো ১ হাজার কিউবিক কিলোমিটারের অধিক উদ্গীরণ করতে সম। এরা ততটা ঘনঘন উদ্গীরণ করেনা, কয়েক হাজার বছরে একবার বা আর কম। তবে সুপার ভলকানো সাম্প্রপ্তিক আচরণে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন বিজ্ঞানিরা। আইসল্যান্ডের আগ্নেয়গিরিতে ফাটল ও ধোঁয়ার কারণে উদ্গীরণের সম্ভাবনা ঘনীভূত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা যায় ইয়েলোস্টোন এক অদ্ভুত আচরণ মেনে চলে। এর উদ্গীরণের সময়কাল যথাক্রমে ৩০ লাখ, ২১ লাখ, ১৩ লাখ ও ৬ লাখ বছর আগে। লক্ষ করলে দেখা যায় এটি যথাক্রমে ৯ লাখ, ৮ লাখ, ৭ লাখ বছর পর পর উদ্গীরিত হচ্ছে। এই নিয়ম মেনে চললে ২০১২ সালে আবার উদ্গীরণ হবার কথা। বিজ্ঞানিরা দাবি করেছেন ২০১২ সালের শেষের দিকে একটি উদ্গীরণের আশংঙ্কা রয়েছে। আর এ কথা অনস্বীকার্য যে, এটি উদ্গীরিত হলে শুক্র গ্রহের মত পৃথিবীতে ও থেমে যাবে প্রাণের স্পন্দন।
লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার(Lurge Hudron Collider-LHC)
পৃথিবীর বৃহত্তম কণা ত্বরক মেশিন হচ্ছে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার। সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্ত অঞ্চলে নিচে এটি স্থাপিত যার দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। LHC নির্মানে ১ হাজার কোটি ডলার খরচ হয়েছে। এটি উদ্ভাবন করেছেন ইউরোপের প্রভাবশালী বিজ্ঞান সংস্থা সার্ন (ইউরোপের অর্গানাইজেশন ফর নিউকিয়ার রিসার্চ)। এখানে ৮৫টি দেশের ৮ হাজারেরও অধিক বিজ্ঞানী এই ত্বরক নির্মান প্রকল্পে কাজ করছেন। এছাড়াও অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগার এই নির্মান প্রক্রিয়ার সাহায্য করেছে।২০০৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো পুরো LHC’তে প্রোটন রশ্মি চালানো হয়। এর আগে অনেকগুলো হ্যাড্রন-কোলাইডার তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু LHC’র মতো অন্য কোনটি এত আলোচিত হয়নি।কেননা আগের কোলাইডারগুলোর তুলনায় এটি কয়েক গুণ বেশি উচ্চ শক্তিসম্পন্ন। এটি আবার চালানো হয় ২০০৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু তখন সারা বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যে, বিগ ব্যাং পরীক্ষা চালানোর সময় ওই কোলাইডারে অপরিসীম শক্তি উৎপন্ন হবে যা বিজ্ঞানীরা নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। এ পরীক্ষার বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত হয়। কিন্তু চালু করার নয় দিন পর এটিতে ত্রুটি ধরা পড়ে। এটি মেরামত করতে ১৪ মাস লাগে এবং ৪ কোটি ডলার খরচ হয়। এর মধ্যকার সংঘর্ষের মাধ্যমে দেখা হবে মহাবিষ্ফোরোনের সময় পরমাণু কি আচরণ করে, তৈরী করা হবে কৃত্রিম ‘Big Bang’। দ্য ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন অব নিউক্লিয়ার রিসার্চের তথ্য অনুসারে তারা ২০১২ সালে আবার এটি চালু করবে। আলোর গতিতে দুটি প্রোটন কণার মধ্যে সংঘর্ষ ঘটানো হবে, তৈরি হবে ‘Black Hole’। এরপর তা বিস্ফোরিত হবে মহাশক্তিতে । এ সময় তৈরি হবে বিগ ব্যাংয়ের সময়কার তাপ। এই তাপ ৪০,০০০০০০০০০০০(৪০ লক্ষ কোটি) ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকেও বেশি হবে বলে জানা গেছে।বিজ্ঞানিরা যদি এই বিশাল তাপ নিয়ন্ত্রনণ করতে ব্যর্থ হন তবে পৃথিবী ধ্বংস যে অনিবার্য তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
I-Ching''র ভবিষ্যদ্বাণী
I-Ching'র ভবিষ্যদ্বাণী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভবিষ্যদ্বাণী গুলোর অন্যতম।প্রায় ৫,০০০ বছর পূর্বের I-Ching'র ভবিষ্যদ্বাণীতে উল্লেখিত প্রায় সব কথা সত্য হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে রোমান সাম্রাজ্যের ধ্বংস, আমেরিকা আবিষ্কার, দুটি বিশ্বযুদ্ধ ইত্যাদি। সাথে সাথে ঐ ভবিষ্যদ্বাণীতে এটাও বলা আছে যে ২০১২ সালে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।
মহাজাগতিক কারণ
ইন্টারন্যাশনাল ইউ এফ ও রিসার্স অর্গানাইজেশনের তথ্য মতে তারা সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক UFO (Unidentified Flying Object) দেখতে পেয়েছেন। এর কারণ সম্পর্কে তারা অবগত নন। এছাড়াও ২০১২ সালে আমাদের সৌরজগৎ ও ছায়াপথ একই সমতলে থাকবে। এই চক্র পূর্ণ হতে প্রায় ২৬ হাজার বছর লেগেছে। পাশাপাশি ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর সৌরজগতের সবগুলো গ্রহ এবং সূর্য এক সরলরেখায় চলে আসবে। অর্থাৎ, খুব শিগগিরই মহাজাগতিক কোন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।
প্রকৃতির বৈরী আচরণ
সাপ্রতিককালে বিশ্বজুড়ে প্রকৃতি যে আচরণ শুর করেছে তা সত্যিই উদ্বেগজনক। কয়েক বছর ধরেই পৃথিবীর বুকে আঘাত হানছে বৈরী আবহাওয়া। ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ধারাবাহিক ভবে ভূমিকম্প, দাবানল, বন্যা, তুষারঝড়, ঝড়-জলোচ্ছাস ও শৈত্যপ্রবাহ বিশ্বজুরে লেগে আছে। আক্রান্ত হচ্ছে রাশিয়া, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ইউরোপ, কলম্বিয়া, চীন, ভারত, জাপান, বাংলাদেশসহ বিশ্বেও অধিকাংশ দেশ। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করেছেন ২০০১ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম কাল। এমনকি আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা WMO ২০১০ সালকে ১৫০ বছরের মধ্যেবিশ্বের সবচেয়ে গরম বছর হিসাবে চিিহ্নত করেছে। তারচেয়েও আতঙ্কের বিষয় সাম্প্রতিক কালে জাপানে যে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে তাতে পৃথিবীর অক্ষ ১ মিনিট কোণে হেলে গেছে। ফলশ্রুতিতে জ্যোর্তিবিজ্ঞানীদের সব হিসাবনিকাশ ভূল প্রমাণ করে উত্তর গোলার্ধেও এলাকা গ্রীনল্যান্ডে নির্ধারিত সময়ের ২ দিন আগে সূর্যদয় হয়েছে। এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। আর জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভবিষ্যৎ ফলাফল হল পৃথিবী ধ্বংস।
উপরে উল্লেখিত তথ্যাবলি থেকে অনুমান করা যায়, ২০১২ সালে হয়ত কিছু না কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তবে বিজ্ঞানিরা পৃথিবী ধ্বংসের ব্যাপারে একমত নন। তাদের মতে,২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বরের পর পৃথিবী ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়বে। অনেকের মতে পৃথিবীতে মহামারি দেখা দিবে অথবা কোনো না কোনো ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানবে। তবে যাই হোক না কেন আমরা নিশ্চয়ই ‘ডুমসডে-২০১২’ মুভিটির বাস্তবরুপ দেখতে আগ্রহী হব না, তাই না?
লেখক-- মোঃ জাহিদুল ইসলাম।
উৎস- http://www.earthsky.com, http://www.aboutastro.com, http://www.SecondTree.org,http://www.2012thetruth.com, New Yourk Times, দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন।
Comments
Post a Comment